সেক্স থেরাপিস্টরা ভালো করেই জানেন – অর্গাজম শুধু চুদাচুদির সময় হয় না। অনেকে ছোটবেলায় বলে – জিমন্যাস্টিকের রশি বেয়ে ওঠার সময়, বা প্যারালাল বারে ঝুলে থাকার সময়ও মজা লেগেছে। অর্থাৎ প্রকৃতি আমাদের শরীরে এমন সিস্টেম বসিয়েছে যে আনন্দের চরম মুহূর্ত আসতে পারে যেকোনো সময় – ইচ্ছে না করলেও। তাহলে হস্তমৈথুনকে লজ্জার জিনিস ভাবা কেন? এ তো সচেতনভাবে নিজেকে খুশি করা – শুধু পার্টনার ছাড়া। মেডিকেল এক্সপার্টরা একমত – এটা পুরোপুরি স্বাভাবিক, আমাদের মানুষ হওয়ার সাথে যায়।
মহিলাদের হস্তমৈথুন কি ক্ষতিকর?
অনেক মেয়ের কাছে হস্তমৈথুন আর অনলাইন পর্নো চ্যাট শুনলেই ভয় লাগে, লজ্জা লাগে। এই ভয়টা ছোটবেলা থেকে বাবা-মা ঢুকিয়ে দিয়েছে। বড় হয়ে আমরা সেই ভয়টা ছেলেমেয়েদের দিই, তারা তাদের দিয়ে যায় – এভাবেই চলতে থাকে। ছেলেদের ক্ষেত্রে অবশ্য একটু কম কড়াকড়ি। ছেলে যদি ধরা পড়ে হাত মারতে – বেশিরভাগ সময় কিছু হয় না। কিন্তু মেয়ে ধরা পড়লে বাড়িতে হইচই পড়ে যায়।
এই অন্যায় কেন? মূল কারণ – বাবা-মা ভয় পান মেয়েরা ইনফেকশন পাবে। ছেলেদের লিঙ্গ বাইরে থাকে, সহজে পরিষ্কার হয়, ইনফেকশন কম হয়। মেয়েদের ভোদা ভেতরে, সেনসিটিভ – একটু অসাবধান হলেই সমস্যা। তাই "হাত দিও না" বলে শেখানো হয়। কিন্তু সত্যি কথা – পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকলে, নিজের শরীর বোঝলে কোনো ক্ষতি হয় না। বরং অজান্তে জোর করে, নোংরা হাতে করলে সমস্যা হয় – সেটা তো যেকোনো কাজেই হয়।
মহিলাদের হস্তমৈথুন কি উপকারী?
স্কুল-কলেজে সেক্স এডুকেশনের সময় একই সমস্যা। লেকচারারদের বলা হয় – ওরাল সেক্স, হস্তমৈথুন নিয়ে কথা বলা যাবে না। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলে – এসব "নৈতিকতা"র সাথে যায় না। সেক্সোলজিস্টরা মনে মনে রাগে, কিন্তু চুপ করে থাকে। কিন্তু চুপ থাকলে কী হয়? টিনএজার নিজে নিজে বুঝবে কীভাবে? চুপ করে থাকলে অজানা ভয় আরও বাড়ে, মনের মধ্যে নেগেটিভ ধারণা জমে।
রিসার্চ বলে – ১২-১৬ বছর বয়সে যে মেয়েরা হস্তমৈথুনের অভিজ্ঞতা নিয়েছে, পরে তাদের যৌন জীবনে অনেক কম সমস্যা হয়। যারা "লাজুক" হয়ে এড়িয়ে যায় – তাদের পরে অর্গাজমের সমস্যা, সেক্সে অস্বস্তি, পার্টনারের সাথে কমিউনিকেশনের ঝামেলা বেশি হয়। কেন? কারণ নিজের শরীর চেনা মানে নিজেকে চেনা। কোন জায়গায় ছোঁয়ালে মজা লাগে, কত জোরে চাই, কীভাবে রিল্যাক্স হয় – এসব জানলে পরে পার্টনারকে বলতে সহজ হয়। "এখানে আস্তে করো", "এভাবে চাপ দাও" – এসব বলতে লজ্জা লাগে না।
আরও উপকার – স্ট্রেস কমে। মাসিকের আগে যে টেনশন, মাথাব্যথা, মুড সুইং – হস্তমৈথুন করে অর্গাজম হলে অনেকটা রিলিফ পাওয়া যায়। হরমোন ব্যালেন্স হয়, ঘুম ভালো হয়। অনেক মেয়ে বলে – "পিরিয়ডের আগে দুটো দিন হাত মারলে ব্যথা কম লাগে, মনটা হালকা হয়"। আর যারা একা থাকে, লং-ডিস্ট্যান্স রিলেশনশিপে – এটা তো লাইফসেভার। অনলাইন চ্যাটে গিয়ে কারো সাথে শেয়ার করলে তো আরও মজা।
কিন্তু ক্ষতি? হ্যাঁ, যদি অতিরিক্ত হয়, জোর করে করো, নোংরা হাতে করো – তাহলে ইরিটেশন, ইনফেকশন হতে পারে। যদি গিল্টি ফিল করে করো, মনে মনে লজ্জা পাও – তাহলে মানসিক স্ট্রেস বাড়ে। কিন্তু এগুলো তো হস্তমৈথুনের দোষ নয় – এগুলো আমাদের শেখানো ভয় আর অজ্ঞতার ফল। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকো, নিজের শরীরকে সম্মান করো, জোর করে না করে আরাম করে করো – তাহলে কোনো ক্ষতি নেই, শুধু উপকার।
ভাই (বা বোন), তুমি কি এখনো লুকিয়ে লুকিয়ে করো? নাকি খোলাখুলি নিজেকে ভালোবাসতে শিখেছ? যদি না শিখে থাকো – আজ থেকে শুরু করো। নিজের শরীরকে চেনো, নিজেকে খুশি করো। কারণ যে নিজেকে খুশি করতে জানে না – সে অন্যকে কীভাবে খুশি করবে? আর যদি কখনো মনে হয় "এটা খারাপ" – তাহলে মনে করো – প্রকৃতি তোমাকে এই আনন্দের জন্যই শরীর দিয়েছে। লজ্জা করার কী আছে? চুপচাপ বিছানায় শুয়ে, আলো নিভিয়ে, নিজের মতো করে... আরাম করো। দেখবে, পরের দিন মনটা কত ফ্রেশ লাগবে।